বিশ্বাসই পুণ্যের ভিত্তি/ইউসুফ কান্ধলভী (রহ.)-এর বক্তব্য থেকে অংশবিশেষ
“পুণ্য এই নয় যে তোমরা তোমাদের মুখ পূর্ব দিকে অথবা পশ্চিম দিকে ফেরাও..” (2:177)
এমন নয় যে, নামাজের জন্য এদিক-ওদিক মুখ ফেরালেই কারো ‘পুণ্য’ হয়ে যায়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, শুধু নামায পড়াই পুণ্য নয়। তাহলে পুণ্য কী?
প্রথমত, একজনের বিশ্বাস সঠিক হতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী? তা হলো, বিশ্বাসকে সংশোধন করা!
“…বরং [প্রকৃত] পুণ্য [নিহিত] সেই ব্যক্তির মধ্যে যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে,” (2:177)
এর অর্থ কী?
সে ধন-সম্পদ, জিনিসপত্র, জমি, ঘরবাড়ি, সম্পত্তি, পৃথিবী, আকাশ, চাঁদ, সূর্য, মানুষ ও নিজের সত্তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
সে সবকিছুর প্রতি নিজের বিশ্বাস ও নির্ভরতা মুছে ফেলে।
এবং কেবল এক আল্লাহর উপরই নিজের বিশ্বাস ও নির্ভরতা স্থাপন করে।
আমরা বলি, আল্লাহই সবকিছু করেন। কিন্তু আমরা এই দুনিয়ার উপায়-উপকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাই।
এর অর্থ হলো, আমরা আল্লাহর মাহাত্ম্য উপলব্ধি করতে পারিনি।
আল্লাহ সকল উপায়-উপকরণ থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী!
আল্লাহ ব্যতীত সবকিছুই শক্তিহীন। উপায়-উপকরণ স্বভাবতই শক্তিহীন। এগুলো আমাদের জীবনধারণের কারণ নয়। এগুলোই আমাদের সাফল্য এনে দেবে না। বিপদ-আপদ উপায়-উপকরণের কারণে ঘটে না। আল্লাহ উপায়-উপকরণ ছাড়াই কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন। আল্লাহ কোনো মাধ্যম ছাড়াই কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন।
আল্লাহই পরম কর্তা!
আল্লাহর একত্বে এই বিশ্বাসই হলো পুণ্যের (তাকওয়ার) ভিত্তি।
