মাওলানা ইউনুস জৌনপুরী (২ অক্টোবর ১৯৩৭ - ১১ জুলাই ২০১৭) ছিলেন একজন ভারতীয় আলেম, যিনি সাহারানপুরের মাজাহিরুল উলুমে হাদীসের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক (শাইখুল হাদীস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভীর জ্যেষ্ঠ ছাত্র ও খলিফাদের মধ্যে একজন ছিলেন।
অনেকে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, একবার এক খতমে বুখারী অনুষ্ঠানের সময় মাওলানা সাদ তার দুই সন্তানকে নিয়ে মাওলানা ইউনুস জৌনপুরীর সাথে সাক্ষাৎ করতে যায় এবং তাঁর কাছে দুই সন্তানের জন্য দুআ চায়। মাওলানা ইউনুস জৌনপুরী বরং দুআ করেন, ‘হে আল্লাহ, সাদের ফিতনা থেকে উম্মতকে রক্ষা করুন’।
হে আল্লাহ, সাদের ফিতনা থেকে উম্মতকে রক্ষা করুন - মাওলানা ইউনুস জৌনপুরী
এই খতমে বুখারী অনুষ্ঠানটি ছিল একটি বৃহৎ আয়োজন এবং এই ঘটনার সাক্ষী ছিলেন অনেকে। এটি দারুল উলুমগুলোতে (দেওবন্দ ও সাহারানপুর) আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল, কারণ মাওলানা ইউনুস জৌনপুরী ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যক্তি এবং তিনি কখনও কাউকে ভর্ৎসনা করার জন্য এমন কথা বলতেন না, কারো নাম উল্লেখ করা তো দূরের কথা।
তথ্যসূত্র
সূত্র #১
মসজিদের ভেতরে মুফতি নিজামুদ্দীন কাসমির অডিও সাক্ষ্য:
অনুবাদ:
“হযরত মাওলানা ইউনুস সাহেবের ব্যাপারে বলতে গেলে (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন), আজ আমি একটি আমানত হিসেবে কিছু কথা বলব। যখন সে (মাওলানা সাদ) তার দুই সন্তানকে নিয়ে গিয়ে বলল, ‘হযরত, আমাদের সন্তানদের জন্য দুআ করুন, আমাদের সন্তানদের জন্য দুআ করুন,’ তখন তিনি জবাবে বললেন, ‘আমি বরং আপনার জন্য দুআ করছি। আল্লাহ আপনাকে সঠিক হিদায়াত দান করুন। আমি আপনার জন্য দুআ করছি, আল্লাহ আপনাকে সঠিক হিদায়াত দান করুন।’ আমি নিজ কানে এটা শুনেছি।
সমগ্র সাহারানপুর এর সাক্ষী, আর দারুল উলুম দেওবন্দের সেই আলেমগণও সাক্ষী, এবং যেসব ছাত্র মুসালসালাতের দরসে উপস্থিত থেকেছেন কিংবা খতমে বুখারীতে অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁরাও সাক্ষী। তিনি নির্দিষ্টভাবে নাম উল্লেখ করে বললেন, ‘হে আল্লাহ, এই ব্যক্তির ফিতনা (পরীক্ষা) থেকে উম্মতকে রক্ষা করুন।’
আমি আল্লাহর ঘরে বসে এই কথা বলছি এবং সেই মহান প্রয়াত ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করছি। তিনিই ছিলেন সেই ব্যক্তি, যাঁকে হযরত শাইখুল হাদীস জাকারিয়া সাহেব (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) নিজের উত্তরসূরী নিযুক্ত করেছিলেন এবং যিনি ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তি। সেই ব্যক্তিত্বের জিহ্বা কখনো কারো বিরুদ্ধে খুলত না, কিন্তু যদি কখনো খুলত, তা হতো কেবল এই ব্যক্তির ব্যাপারেই। তিনি বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহ, এই ব্যক্তির ফিতনা থেকে এই উম্মতকে রক্ষা করুন।’”
সূত্র #২
মাওলানা সাদ সম্পর্কে ইদারা নাহি আনিল মুনকার - মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ কাসমি, কর্ণাটক

