🗓️ অনুষ্ঠানের তারিখ: ৩১শে জানুয়ারি, ১লা, ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
দাওয়াতনামা
সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় শুরা আহবাব/ জিম্মাদার হযরত/ প্রবাসী ভাইগণ/ সকল দেশের,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন এবং দ্বীনের বরকতময় কাজে গভীরভাবে নিয়োজিত আছেন।
পৃথিবীর সকল মানুষের দুইটি জীবন রয়েছে - একটি হলো এই দুনিয়ার জীবন যা ক্ষণস্থায়ী, আর দ্বিতীয়টি হলো আখিরাতের জীবন যা মৃত্যুর মাধ্যমে শুরু হয় এবং যার কোনো শেষ নেই। মানবজীবনের প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনা করতে গিয়ে পবিত্র নবী (সা.) মহান আল্লাহর এই বাণী পৌঁছে দিয়েছেন যে, “আমি সমগ্র বিশ্ব সৃষ্টি করেছি মানবজাতির কল্যাণের জন্য, আর মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছি আখিরাতের জন্য।”
তাই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবায়ে কেরামের একমাত্র ইচ্ছা ও সংকল্প (ইরাদা ও আযায়েম) ছিল আখিরাত - “ইন্নামা হিম্মুনা আল-আখিরাহ”।
দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে প্রকৃত সাফল্য অর্জনের জন্য মহান আল্লাহ দ্বীন দান করেছেন। রাসূল (সা.)-এর বরকতময় পন্থায় আল্লাহর হুকুম-আহকাম পালন করার নামই দ্বীন। এই দ্বীনের অন্যতম মৌলিক বিষয় হলো, আল্লাহই আমাদের একমাত্র রব। তিনি শুধু এই বিশ্বজগৎ সৃষ্টিই করেননি, বরং তিনিই এর একমাত্র নিয়ন্ত্রক। আমরা চোখে যা কিছু দেখি, তার সবই সৃষ্টি (মাখলুক)। সকল সৃষ্টিই সর্বদা একমাত্র মহান আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি অদৃশ্য থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন।
ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই নবী করীম (সা.) ঈমানের এই শিক্ষার আলোকে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) আজমাঈনের ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) সুদৃঢ় করেছেন। হযরত সাহাবায়ে কেরাম (রা.) আজমাঈনের ঈমানের বোধ এতটাই দৃঢ় ছিল যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) সমগ্র রাজত্বের বিনিময়েও এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর ঈমান ত্যাগ করেননি।
দাওয়াতের দায়িত্ব
যুগে যুগে আল্লাহ তা’আলা নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াতের কাজ পরিচালনা করেছেন। যেহেতু আমরা সর্বশেষ নবীর উম্মত এবং নবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর আর কোনো নবী আসবেন না, এই কারণে আল্লাহ তা’আলা দাওয়াতের কাজের দায়িত্ব প্রদান করে এই উম্মতকে সম্বোধন করেছেন এবং “শ্রেষ্ঠ উম্মত” বলে সম্মানিত করেছেন।
হযরত সাহাবায়ে কেরাম (রা.) আজমাঈন এই কাজের দায়িত্ব উপলব্ধি করেছিলেন এবং ঈমানের আলোকে নামাজ কায়েম করেছিলেন; ইলম ও যিকিরের আলোকে এবং নবী (সা.)-এর আখলাক (চরিত্র) সাথে নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে ভ্রমণ করেছিলেন। মদীনা মনওয়ারার সাহাবী হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের নিকটে শায়িত আছেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, প্রতিটি কর্মী সাথীর জন্য জরুরি যে তিনি সালানা (বার্ষিক) ও মাহানা (মাসিক) খুরুজ আদায় করবেন এবং একই সাথে সকল মসজিদে স্থানীয় কাজ পুনরুজ্জীবিত করার (মোকামী কাম জিন্দা) জন্য অক্লান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
আসন্ন ইজতেমার বিবরণ
আলহামদুলিল্লাহ, হযরত সাহাবা (রা.)-এর অনুসরণে সমগ্র মানবজাতির মাঝে পরিপূর্ণ দ্বীন পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা ও দ্বীনের মেহনতের অংশ হিসেবে, ইনশাআল্লাহ আগামী বছর ২০২৫ সালের ৩১শে জানুয়ারি এবং ১লা ও ২রা ফেব্রুয়ারি টঙ্গীতে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। এই ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন ইন্দো-পাক ও বাংলাদেশের শুরা-ই-নেজামের আকাবিরীন হযরতগণ, উলামায়ে কেরাম এবং সমগ্র বিশ্বের সকল সাথীগণ।
উল্লেখ্য যে, হযরত সাহাবায়ে কেরাম (রা.) আজমাঈন এই কাজের দায়িত্বে ছিলেন, তাই তাঁরা এর আমানতদারও ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে তাঁরা যেভাবে দ্বীন শিখেছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে দ্বীনকে যেভাবে দেখেছিলেন, তা অবিকল পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁরা এতে কোনো সংযোজন, বিয়োজন বা পরিবর্তন করেননি। একইভাবে, আজ প্রতিটি কাজ সম্পাদনকারী সাথীদের জন্য এটি একটি মহান আমানত যে, তিন হযরতজী - হযরত মাওলানা ইলিয়াস সাহেব (রা.), হযরত মাওলানা ইউসুফ সাহেব (রা.) এবং
সর্বশেষ হযরতজী মাওলানা এনামুল হাসান সাহেব (রা.) - বিগত ৭০/৭৫ বছর ধরে সমগ্র বিশ্বে তাঁদের এই কাজ পরিচালনা করে গেছেন, যা প্রতিষ্ঠিত এবং সর্বজনস্বীকৃত। সমগ্র বিশ্বে আলামী শুরার পরামর্শে সেই একই তারতীব প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য টঙ্গী ও রায়ওয়িন্দ ইজতেমার উপলক্ষ্য একটি মহান সুযোগ।
অতএব, এখন থেকেই প্রচেষ্টা করুন যাতে আপনার দেশ থেকে অধিক সংখ্যক (কাসরাত) জামাআতসহ চিল্লা/৩ চিল্লা পাঠানো যায়, যেন ইজতেমার পূর্বে আপনি এই মেহনতে শরীক হতে পারেন। কয়েকটি ইজতেমায় অংশগ্রহণ করার চেয়ে চিল্লা/তিন চিল্লার জন্য আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া অনেক বেশি উত্তম।
অনুরোধ রইলো, এই চিঠির অনুলিপি আপনার আশেপাশের শহরগুলোতে পাঠানোর জন্য। এ বিষয়ে কাকরাইলের সাথে যোগাযোগের ই-মেইল ঠিকানা নিচে দেওয়া হলো।
ই-মেইল: madrasaudkakrail@gmail.com
আরযগুজার,
মুহাম্মদ জুবায়ের,
খতিব ও অধ্যক্ষ,
মাদ্রাসা উলুমি দ্বীনিয়া মালওয়ালী মসজিদ আহলে শুরা,
তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ এবং
চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ তাবলীগ মারকাজ ট্রাস্ট, কাকরাইল, ঢাকা।
দাওয়াতনামা পিডিএফ ডাউনলোড
ইংরেজি
ইজতেমা দাওয়াতনামা-২০২৫ (ইংরেজি)ডাউনলোড
আরবি
ইজতেমা দাওয়াতনামা-২৫ (আরবি)ডাউনলোড
উর্দু
ইজতেমা দাওয়াতনামা-২০২৫ (উর্দু)ডাউনলোড
